ক্রাইসিস মানে সংকট। আমাদের যাপিত জীবনে সংকটেরতো অভাব নেই, এবার এই সংকটগুলো সবচেয়ে বেশি কাদের হচ্ছে? জানি আমাদের মানে এই প্রজন্মেরই। প্রশ্ন যদি হয় যে, “বর্তমান প্রজন্মের সংকটগুলো আসলে কি?” এর জবাবে হাজারকটা উত্তর আসা সম্ভব। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু বলা যাক চলুন তবে- যেমন অনিরাপত্তা, অতিরিক্ত কনফিডেন্স, একাকীত্ব, সহনশীলতা এবং যাপনের অভাব, প্রেম ছেড়ে যাওয়া জোড়া লাগা, "নেই" এই জিনিসটাকে গ্রহন করতে না পারা, অস্থিরতা ইত্যাদি। সবচেয়ে ভালো যা বুঝতে পারা যায় তা হল ‘আমরা জানিইনা আমরা কি চাই, জানতে চাইওনা হয়তো’। বেশিরভাগ তরুণ এখন স্বপ্নহীন সুনির্দিষ্ট কোন স্বপ্ন নেই। এগুলো বড় বড় সংকট হিসেবে ধরছি।
এইযে এতো এতো সংকট, হতাশা এসব কোথা থেকে হচ্ছে বা বেরুতে চাইছি কিভাবে এ সময়ে এসে আমরা? খেয়াল করবেন এখন অনেক বেশি ছুটতে হয় সমস্ত কিছুতেই। সেখানে সবাই সবাইকে সন্দেহ করে এবং তা থেকে তৈরি হচ্ছে জটিলতা। জটিলতাতো বিভিন্ন কারনে তৈরি হতে পারে কিন্তু এভাবে হওয়াতে যা হয়; তাহলো দেখাতে হয় আমি খুব চিল্ড লাইফ লিড করি, আমার গার্লফ্রেন্ড কতটা হট অন্যদের থেকে, আমি সেক্সি, আমার অনেক ফলোয়ার ব্লা ব্লা! মানে ওই আরকি মেকি জীবন যা রোজ আমরা যাপন করছি। এটা মানুষের মধ্যে অসুস্থ্য প্রতিযোগীতার কারনে হচ্ছে। এই লোক দেখানোর মাত্রাতিরিক্ত প্রবণতাটা। প্রকাশিত মানুষ পাবলিক ডেমেইনে থাকা মানুষ মাত্রই সেলিব্রেটি এরকম একটি প্রচলিত প্রবণতা ছিলো। প্রকাশিত হবার প্রযুক্তি সবার হাতে হাতে আছে বলে সকলে এটির ব্যবহার করছি এবং প্রকাশিত হচ্ছি। মানুষের মধ্যে তো অমর থাকার, ‘আমাকে-আপনাকে-মনের-মধ্যে-স্থাপিত-করার’ একটা আকাঙ্খা কাজ করে, তাই সে নিজেকে জাহির করে। কোন না কোন ভাবে প্রকাশিত হতে চায়। ব্যতিক্রম আছে অবশ্যই, সবার প্রকাশ করার মানে এক তা বলছিনা কিন্তু। ব্যতিক্রম কখনো উদাহরণ হতে পারেনা।
এসব করে কি আমরা সন্তুষ্ট? আমরাকি এগুলোকেই হ্যাপিনেস বলছি! তাহলে দিন শেষে গুমরে মরছি কেন!! না সন্তুষ্টি আসেনা এসবে কোনভাবেই। মানুষ নিজেকে বোঝাতে চায় আর ভাবে অন্যকে বোঝাতে পারছে। রোজ পাঁচটা জামা বদলে মুখে মেকআপ করে ফটো তুললে আর সেসব প্রতি ঘন্টায় আপলোড দিলে কিছুই প্রমাণ হয়না। আদতে বাড়ে ফ্রাস্টেশন। বুদ্ধিমানদের বাড়ে, বোকাদের বাড়েওনা। তারা খুশিই থাকে এই সোকল্ড চিলড লাইফ নিয়ে। এগুলো হচ্ছে যাপিত জীবনের বোধ ও প্রতিচ্ছায়ার প্রতিফলন। মূল কথা হল আমরা আসলে ভালো নেই কোনভাবে তাই এতো কিছু করে যাচ্ছি।
আচ্ছা একটা কথা বলুনতো, দুঃখ বেদনা থেকে ভালো কিছু কেন শিখতে পারছিনা আমরা?? কেন রেলগাড়ির ঝমাঝম শব্দ আনন্দে আনমনা করছেনা, একটা ঝরে পরা পাতায় কেন আনন্দ পাচ্ছিনা, একটা হলদে সাইকেল, সোডিয়ামের আলো, আকাশের রং, শীতের ঘোলাটে সন্ধ্যের মাঠ, একজন অদ্ভুত লোকের চিৎকার করে গেয়ে যাওয়া গান "মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি,মানুষ ছাড়া ক্ষ্যাপা রে তুই মূল হারাবি" আমাদের আনন্দ দিচ্ছেনা কেন!! জানালার পাশে হেলে থাকা লতানো গাছের অচেনা ফুলের গন্ধ কেন মোহিত করেনা? আমরা কি খুঁজছি? আনন্দ কোথায় খুঁজছি? ভেতর ফেলে বাইরের দিকে তাকিয়ে আছি!! কারন জীবনের মহত্ব ও বিশালত্বকে আমরা উপলব্ধি করতে পারছিনা। আমাদের চোখ তৈরী হচ্ছেনা, দেখার চোখ। গতানুগতিক ভাবে খুঁজে যাচ্ছি হ্যাপিনেস। রোজ বাড়ি ফিরছি নিঃসঙ্গ বুকে চোখের কোনে চিকচিকে বালি নিয়ে। কি অদ্ভুত, অথচ আপনি যে অবস্থাতেই থাকুননা কেন আপনি কখনোই নিঃসঙ্গ নন যদি স্বচ্ছ করে নেওয়া যায় মনটাকে। দেখবেন যে কোন বেদনা যখন আপনাকে ফেঁড়ে ফেলে ওটাকেই আপনার জীবনের চরমতম সত্য বলে মনে হয়। কিন্তু একজনের ব্যক্তিগত বেদনাকে জীবনের সবচেয়ে বড় জিনিস বলে মনে করার কিছু নেই। একটা বৃহত্তর জীবন যে বয়ে চলেছে একটা আরো বড় নকশি কাঁথা যে আছে এর একটি মাত্র নকশাকেই আমরা সর্বস্ব বলে ভাবছি। কিন্তু একটু বাইরের দিকে তাকালে আর আকটু ওপর থেকে দেখলে দেখবেন বড় একটা নকশা চলছে এবং এটাকে সবচেয়ে বড় সত্য বলে ভাবার কিছু হয়নি। আপনি দেখার চোখটা বদলে দিন। ভালোবাসা,আনন্দ শুধু একই জায়গায় কিংবা কোন নির্দিষ্ট ব্যক্তির মধ্যেই সীমিত নয় টের পাবেন। দেখবেন জীবন সত্যি কতটা সুন্দর। আপনি এই জীবনের কাছে ঋণী হয়ে যাবে। নিজের ভেতরে খুঁজে পাবেন এক আশ্চর্য গোধূলি। জীবনকে ধন্যবাদ দেবেন বারবার।
এইযে এতো এতো সংকট, হতাশা এসব কোথা থেকে হচ্ছে বা বেরুতে চাইছি কিভাবে এ সময়ে এসে আমরা? খেয়াল করবেন এখন অনেক বেশি ছুটতে হয় সমস্ত কিছুতেই। সেখানে সবাই সবাইকে সন্দেহ করে এবং তা থেকে তৈরি হচ্ছে জটিলতা। জটিলতাতো বিভিন্ন কারনে তৈরি হতে পারে কিন্তু এভাবে হওয়াতে যা হয়; তাহলো দেখাতে হয় আমি খুব চিল্ড লাইফ লিড করি, আমার গার্লফ্রেন্ড কতটা হট অন্যদের থেকে, আমি সেক্সি, আমার অনেক ফলোয়ার ব্লা ব্লা! মানে ওই আরকি মেকি জীবন যা রোজ আমরা যাপন করছি। এটা মানুষের মধ্যে অসুস্থ্য প্রতিযোগীতার কারনে হচ্ছে। এই লোক দেখানোর মাত্রাতিরিক্ত প্রবণতাটা। প্রকাশিত মানুষ পাবলিক ডেমেইনে থাকা মানুষ মাত্রই সেলিব্রেটি এরকম একটি প্রচলিত প্রবণতা ছিলো। প্রকাশিত হবার প্রযুক্তি সবার হাতে হাতে আছে বলে সকলে এটির ব্যবহার করছি এবং প্রকাশিত হচ্ছি। মানুষের মধ্যে তো অমর থাকার, ‘আমাকে-আপনাকে-মনের-মধ্যে-স্থাপিত-করার’ একটা আকাঙ্খা কাজ করে, তাই সে নিজেকে জাহির করে। কোন না কোন ভাবে প্রকাশিত হতে চায়। ব্যতিক্রম আছে অবশ্যই, সবার প্রকাশ করার মানে এক তা বলছিনা কিন্তু। ব্যতিক্রম কখনো উদাহরণ হতে পারেনা।
এসব করে কি আমরা সন্তুষ্ট? আমরাকি এগুলোকেই হ্যাপিনেস বলছি! তাহলে দিন শেষে গুমরে মরছি কেন!! না সন্তুষ্টি আসেনা এসবে কোনভাবেই। মানুষ নিজেকে বোঝাতে চায় আর ভাবে অন্যকে বোঝাতে পারছে। রোজ পাঁচটা জামা বদলে মুখে মেকআপ করে ফটো তুললে আর সেসব প্রতি ঘন্টায় আপলোড দিলে কিছুই প্রমাণ হয়না। আদতে বাড়ে ফ্রাস্টেশন। বুদ্ধিমানদের বাড়ে, বোকাদের বাড়েওনা। তারা খুশিই থাকে এই সোকল্ড চিলড লাইফ নিয়ে। এগুলো হচ্ছে যাপিত জীবনের বোধ ও প্রতিচ্ছায়ার প্রতিফলন। মূল কথা হল আমরা আসলে ভালো নেই কোনভাবে তাই এতো কিছু করে যাচ্ছি।
আচ্ছা একটা কথা বলুনতো, দুঃখ বেদনা থেকে ভালো কিছু কেন শিখতে পারছিনা আমরা?? কেন রেলগাড়ির ঝমাঝম শব্দ আনন্দে আনমনা করছেনা, একটা ঝরে পরা পাতায় কেন আনন্দ পাচ্ছিনা, একটা হলদে সাইকেল, সোডিয়ামের আলো, আকাশের রং, শীতের ঘোলাটে সন্ধ্যের মাঠ, একজন অদ্ভুত লোকের চিৎকার করে গেয়ে যাওয়া গান "মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি,মানুষ ছাড়া ক্ষ্যাপা রে তুই মূল হারাবি" আমাদের আনন্দ দিচ্ছেনা কেন!! জানালার পাশে হেলে থাকা লতানো গাছের অচেনা ফুলের গন্ধ কেন মোহিত করেনা? আমরা কি খুঁজছি? আনন্দ কোথায় খুঁজছি? ভেতর ফেলে বাইরের দিকে তাকিয়ে আছি!! কারন জীবনের মহত্ব ও বিশালত্বকে আমরা উপলব্ধি করতে পারছিনা। আমাদের চোখ তৈরী হচ্ছেনা, দেখার চোখ। গতানুগতিক ভাবে খুঁজে যাচ্ছি হ্যাপিনেস। রোজ বাড়ি ফিরছি নিঃসঙ্গ বুকে চোখের কোনে চিকচিকে বালি নিয়ে। কি অদ্ভুত, অথচ আপনি যে অবস্থাতেই থাকুননা কেন আপনি কখনোই নিঃসঙ্গ নন যদি স্বচ্ছ করে নেওয়া যায় মনটাকে। দেখবেন যে কোন বেদনা যখন আপনাকে ফেঁড়ে ফেলে ওটাকেই আপনার জীবনের চরমতম সত্য বলে মনে হয়। কিন্তু একজনের ব্যক্তিগত বেদনাকে জীবনের সবচেয়ে বড় জিনিস বলে মনে করার কিছু নেই। একটা বৃহত্তর জীবন যে বয়ে চলেছে একটা আরো বড় নকশি কাঁথা যে আছে এর একটি মাত্র নকশাকেই আমরা সর্বস্ব বলে ভাবছি। কিন্তু একটু বাইরের দিকে তাকালে আর আকটু ওপর থেকে দেখলে দেখবেন বড় একটা নকশা চলছে এবং এটাকে সবচেয়ে বড় সত্য বলে ভাবার কিছু হয়নি। আপনি দেখার চোখটা বদলে দিন। ভালোবাসা,আনন্দ শুধু একই জায়গায় কিংবা কোন নির্দিষ্ট ব্যক্তির মধ্যেই সীমিত নয় টের পাবেন। দেখবেন জীবন সত্যি কতটা সুন্দর। আপনি এই জীবনের কাছে ঋণী হয়ে যাবে। নিজের ভেতরে খুঁজে পাবেন এক আশ্চর্য গোধূলি। জীবনকে ধন্যবাদ দেবেন বারবার।

No comments:
Post a Comment