Sunday, January 7

দেহঘড়ি

দেহঘড়ি :
শীতের সকালে দিদা বারান্দায় পা মেলে বসে আছে। দিদা ঘড়ি দেখতে জানে না। ছায়া দেখে সময় বলে দিতে পারে। ছোটবেলায় উঠানে কাঠি পুঁতে কাঠির ছায়া অদৃশ্য হতে দেখেছি কাঠির পিছনে, ঠিক যেমন ঘন্টার কাঁটা বারোটা বাজার সময় মিনিটের কাঁটার পিছনে অদৃশ্য হয়। দিনের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ফুল ফোটে। এইসব বিভিন্ন সময়ে ফোটা ফুল নিয়ে বাগান তৈরি করলে ফুল ফোটা দেখে সময় বলে দেওয়া যাবে।  প্রকৃতি সব কিছু সাজিয়ে রেখেছে নিজস্ব ছন্দে। নিজস্ব ছন্দে সে আবর্তন করছে। দিন রাত্রি হচ্ছে। আমরা প্রকৃতির উপাদান নিয়ে তৈরি। সুতরাং তার পথ অনুসরণ করতে বাধ্য। তাই পৃথিবীর আবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আমাদের শরীরে সৃষ্টি হয়েছে একটি ছন্দ বা ঘড়ি। যার নাম 'দেহঘড়ি'। পৃথিবীর আবর্তনের ফলে দিন ও রাতের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে 'দেহঘড়ি' নির্দিষ্ট ছন্দে চলে। নির্দিষ্ট সময়ে সকালে ওঠা, রাত্রে ঘুমোতে যাওয়া, নির্দিষ্ট সময়ে খিদে পাওয়া সবই নিয়ন্ত্রণ করে এই দেহঘড়ি। এখন দেহঘড়ির বিপরীতে যখন কাজ করি তখন ছন্দ কেটে যায়। প্রকৃতির বিপরীতে গেলে প্রকৃতিও শোধ নেবে। প্রত্যহ নাইট ডিউটি করা একজন লোক তাই নানা রোগে ভোগে। ভোরে ট্রেন ধরার জন্য আমাদের এলার্ম দিতে হয়।
শুধু মানুষ নয় পৃথিবীর সমস্ত উদ্ভিদ ও প্রাণিকুল দেহঘড়ির ছন্দে চলে। সকালে পাখি ডাকা, বছরের নির্দিষ্ট সময়ে প্রজনন, সরীসৃপের শীতঘুম, বছরের নির্দিষ্ট সময়ে ফুল ফোটা, পাতা ঝরে যাওয়া সবই দেহঘড়ির ছন্দে চলে।

1 comment:

ক্রাইসিস টু হ্যাপিনেস

ক্রাইসিস মানে সংকট। আমাদের যাপিত জীবনে সংকটেরতো অভাব নেই, এবার এই সংকটগুলো সবচেয়ে বেশি কাদের হচ্ছে? জানি আমাদের মানে এই প্রজন্মেরই। প্রশ্ন ...